Home আগরতলাত্রিপুরার রাজস্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে রাবার শিল্প, জানালেন CGST-র চিফ কমিশনার কুল প্রকাশ সিং

ত্রিপুরার রাজস্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে রাবার শিল্প, জানালেন CGST-র চিফ কমিশনার কুল প্রকাশ সিং

by Debasish
0 comments 2 views

কেরলের পর রাবার উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় স্থানে ত্রিপুরা। শিল্পায়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে জিএসটি রাজস্ব বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে রাজ্যে। সীমান্তে পাচার ও কর ফাঁকি রুখতে নজরদারি আরও জোরদার করার বার্তা।

আগরতলা, ৩ নভেম্বর : ত্রিপুরার অর্থনৈতিক বিকাশ এবং রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রাবার শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি রাজ্যে শিল্পায়ন, উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটলে জিএসটি আদায়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার আগরতলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এমনটাই জানালেন গুয়াহাটি জোনের সেন্ট্রাল জিএসটি (CGST) ও কাস্টমসের চিফ কমিশনার কুল প্রকাশ সিং।

তিনি জানান, রাবার উৎপাদনে কেরলের পরেই দেশের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ত্রিপুরা। রাজ্যের এই সম্ভাবনাময় শিল্পক্ষেত্রকে আরও সুসংগঠিত করতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, রাবার বোর্ড এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন বৈধ বাণিজ্যিক কার্যকলাপের প্রসার ঘটবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল গুয়াহাটি জোনের চিফ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন কুল প্রকাশ সিং। তাঁর অধীনে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যের কাস্টমস, জিএসটি, সেন্ট্রাল এক্সাইজ এবং সার্ভিস ট্যাক্স সংক্রান্ত বিষয়গুলি পরিচালিত হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিটি রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যবসায়ীদের সমস্যা এবং দপ্তরগুলির কার্যক্রম সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে তিনি বিভিন্ন রাজ্য সফর করেন। ত্রিপুরা ছিল তাঁর এই সফরের সপ্তম তথা শেষ রাজ্য।

ত্রিপুরার সিজিএসটি কমিশনারেটের কাজকর্মে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি কমিশনার কুন্দন যাদবের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। ২০১৭ সালে জিএসটি চালু হওয়ার পর ত্রিপুরায় প্রথম নিয়মিত কমিশনার হিসেবে কুন্দন যাদব দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে জানান তিনি। তাঁর নেতৃত্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় একাধিক পরিবর্তন এবং ব্যবসাবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন চিফ কমিশনার।

রাবার শিল্পের প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই ক্ষেত্রের উপর নজরদারি বাড়াতে দপ্তরের আধিকারিকরা রাবার বোর্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও তথ্য আদানপ্রদান করছেন। কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধ করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। রাবার ব্যবসায় ই-ইনভয়েস ব্যবস্থা চালুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারত সরকার, বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে। তবে কবে থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট কোনও তারিখ জানানো হয়নি।

জিএসটি ফাঁকি এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের পরিবর্তে প্রথমে বকেয়া কর আদায়ের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। শোকজ নোটিশ জারি এবং করের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনে প্রসিকিউশন বা ফৌজদারি আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক জিএসটি কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, প্রসিকিউশনের ক্ষেত্রে কর ফাঁকির নির্ধারিত সীমা এক কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে।

ত্রিপুরার রাজস্বের উৎস সম্পর্কে বলতে গিয়ে কুল প্রকাশ সিং জানান, বর্তমানে রাজ্যের জিএসটি আদায়ের একটি বড় অংশ আসে ওয়ার্কস কন্ট্রাক্ট পরিষেবা থেকে। বিশেষ করে পূর্ত দপ্তর (PWD), সেচ দপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অর্থায়নে পরিচালিত উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি এই রাজস্বের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। পাশাপাশি রাবার শিল্পের উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ডিলারদের কাছ থেকেও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায়ের সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজ্যে শিল্পায়ন, উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড যত বাড়বে, ততই রাজ্যের রাজস্বের ভিত্তি শক্তিশালী হবে। তবে জিএসটি যেহেতু ভোগ বা পণ্য ও পরিষেবার ব্যবহারের উপর নির্ভরশীল কর ব্যবস্থা, তাই শুধু উৎপাদন বাড়লেই হবে না, রাজ্যের অভ্যন্তরে পণ্য ও পরিষেবার ব্যবহারও বৃদ্ধি করতে হবে।

এদিন আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে ত্রিপুরার ভৌগোলিক অবস্থানের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, বনাঞ্চল এবং নদীপথ থাকায় নজরদারির ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে। মাদক, সোনা, গবাদি পশু পাচারের পাশাপাশি সুপারি ও জিরার মতো বাণিজ্যিক পণ্যের অবৈধ চলাচল রুখতে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কুল প্রকাশ সিং বলেন, মাদক হোক কিংবা সোনা, গবাদি পশু অথবা অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য—সব ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে। ধারাবাহিক অভিযান ও নজরদারির ফলে পাচারকারীদের পক্ষে বেআইনি কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠবে।

রাজ্যের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোগীদের উদ্দেশে তিনি কর সংক্রান্ত সমস্ত দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আশ্বস্ত করেন, বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করলে কোনও ব্যবসায়ীকে অযথা হয়রানির শিকার হতে হবে না। দপ্তরের কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় হয়রানির অভিযোগ থাকলে কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার অথবা ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের কাছে সরাসরি অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।

সব মিলিয়ে ত্রিপুরার রাবার শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, শিল্পায়নের গতি বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ বাণিজ্য রোধের মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিলেন CGST ও কাস্টমসের চিফ কমিশনার কুল প্রকাশ সিং।

You may also like

Leave a Comment