রেশন কার্ডধারী পরিবারগুলির কাছে সময়মতো খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ, স্বচ্ছতা ও নজরদারিতে বিশেষ গুরুত্ব রাজ্য সরকারের
আগরতলা, ২৬ অক্টোবর: দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো ও ভাইফোঁটা উপলক্ষে রাজ্যের রেশন কার্ডধারী পরিবারগুলিকে বিনামূল্যে চিনি, ময়দা ও সুজি বিতরণের উদ্যোগের অগ্রগতি খতিয়ে দেখল রাজ্য সরকার। সোমবার নিজের সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে এই কর্মসূচির পর্যালোচনা করেন খাদ্য, জনসংভরণ ও ক্রেতাস্বার্থ বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। খাদ্য দপ্তরের অধিকর্তা, পদস্থ আধিকারিক এবং রাজ্যের বিভিন্ন মহকুমার মহকুমা শাসকরা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে রেশন কার্ডধারী পরিবারগুলিকে বিনামূল্যে এই খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের জনমুখী সিদ্ধান্তের সুবিধা যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, সেটাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, খাদ্যসামগ্রী বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখার পাশাপাশি গোটা প্রক্রিয়ার ওপর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও উপভোক্তা যাতে বঞ্চিত না হন, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
উল্লেখ্য, উৎসবের খাদ্যসামগ্রীর প্রাপ্যতা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবারই সিপিআই(এম) নেতাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছিলেন সুশান্ত চৌধুরী। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় ৫৯ শতাংশ রেশন দোকানে সুজি ও ময়দা পৌঁছে গিয়েছে। বাকি দোকানগুলিতেও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলি পরস্পরের সমালোচনা করতেই পারে, তবে সেই সমালোচনা তথ্যভিত্তিক হওয়া উচিত। কোনও ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রেশন দোকানে খাদ্যসামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে না বলে বিরোধীদের অভিযোগও খারিজ করেন মন্ত্রী।
কোন পরিবার কতটা খাদ্যসামগ্রী পাবে?
সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, যোগ্য প্রতিটি রেশন কার্ডধারী পরিবারকে ২ কেজি ময়দা, ১ কেজি চিনি এবং ৫০০ গ্রাম সুজি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্ত্যোদয়, অগ্রাধিকারভুক্ত পরিবার এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা (বিপিএল) পরিবারগুলিকে সুজি দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, দারিদ্র্যসীমার উপরে থাকা (এপিএল) পরিবার-সহ সমস্ত রেশন কার্ডধারী পরিবারকে ময়দা ও চিনি দেওয়ার কথা জানিয়েছে খাদ্য দপ্তর।
রাজ্যে প্রায় ৯ লক্ষ ৯২ হাজার রেশন কার্ডধারী পরিবার রয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
সুশান্ত চৌধুরী জানান, সুজি ও ময়দা রাজ্যের মধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে চিনি রাজ্যের বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়েছে। শনিবার থেকে খাদ্য দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিকভাবে খাদ্যসামগ্রী বণ্টন শুরু হয়েছে।
এর আগে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সমস্ত রেশন দোকানে সুজি ও ময়দা পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে রাজ্যের সর্বত্র চিনির সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। যেসব উপভোক্তা এখনও খাদ্যসামগ্রী পাননি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁরাও তা পেয়ে যাবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
এই উৎসবকালীন কর্মসূচি সফল করতে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এবং রাজ্যের অর্থমন্ত্রীকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান সুশান্ত চৌধুরী। পাশাপাশি, পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে একই ধরনের বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলির কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তরিক উদ্যোগ প্রয়োজন।