Table of Contents
পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনসেবার বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে শিক্ষাঙ্গনে, ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে দেশব্যাপী কর্মসূচি
আগরতলা, ৯ অক্টোবর: জনসেবা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং দেশ গঠনের কাজে ছাত্রছাত্রীদের আরও বেশি করে যুক্ত করার লক্ষ্যে ত্রিপুরায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। রাজ্যের প্রায় ৫ হাজার সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও বেসরকারি স্কুলের প্রায় ৪.৮ লক্ষ পড়ুয়া এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে সেবার মানসিকতা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে শুরু হওয়া এই অভিযান চলবে আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত। জনসেবার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজকে দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে নাগরিকদের সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আট জেলায় স্কুলগুলির অংশগ্রহণ
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিম ত্রিপুরায় ৬৮০টি, খোয়াইয়ে ৫১৭টি, ধলাইয়ে ৮৬৪টি, ঊনকোটিতে ৩৭২টি, উত্তর ত্রিপুরায় ৫৪৩টি, সিপাহিজলায় ৬৫৫টি, গোমতীতে ৬২০টি এবং দক্ষিণ ত্রিপুরায় ৬৭০টি স্কুল এই অভিযানে যুক্ত হয়েছে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্কুলগুলিকে শুধু শিক্ষাদানের কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও জনকল্যাণমূলক কাজের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবেও গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ছবি আঁকার মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত’-এর ভাবনা
অভিযানের অন্যতম আকর্ষণ ‘মেরে স্বপ্ন কা ভারত—চিত্র সেবা’ কর্মসূচি। এর আওতায় ‘বিকশিত ভারত সংকল্প’ এবং ‘সেবার ২৫ বছর’ বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্কুলে ছবি আঁকার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাজ্যজুড়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত ছবিগুলি নিয়ে শীঘ্রই একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর মাধ্যমে পড়ুয়াদের সৃজনশীল চিন্তাভাবনার পাশাপাশি দেশ গঠন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং জনসেবার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা চলছে।
পথনাটকের মাধ্যমে জনসেবার বার্তা
‘নমো সেবা—অনকহি কাহানিয়াঁ’ উদ্যোগের মাধ্যমে পথনাটকের সাহায্যে মানুষের কাছে জনসেবা ও সামাজিক অংশগ্রহণের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচিত স্কুল, কলেজ এবং জনবহুল স্থানে এই পথনাটক পরিবেশন করা হচ্ছে। নির্ধারিত চিত্রনাট্যের ভিত্তিতে নাট্যদলগুলি বিভিন্ন সামাজিক বিষয় তুলে ধরছে।
পশ্চিম ত্রিপুরায় ১০টি, খোয়াইয়ে ৯টি, সিপাহিজলা, ধলাই, গোমতী, উত্তর ও দক্ষিণ ত্রিপুরায় সাতটি করে এবং ঊনকোটিতে পাঁচটি স্কুলকে এই কর্মসূচির জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও রক্তদানে উৎসাহ
‘সেবা মেরা যোগদান’ কর্মসূচির মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অধীনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ এবং পরিকল্পিত রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। রাজ্যের ১০০টি স্কুল ও শিক্ষা দপ্তরের কার্যালয়ে এই ধরনের কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকে নিজেদের দৈনন্দিন সময়ের কিছুটা অংশ সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর ফলে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজেও স্বেচ্ছাসেবার মানসিকতা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
স্কুল ও স্থানীয় সমাজের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় করার উদ্যোগ
অভিযানের অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি স্কুলে ‘তিথি ভোজন’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার চেষ্টা চলছে।
সামগ্রিকভাবে, ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনকল্যাণে অংশগ্রহণের মানসিকতা গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘সেবা থেকে সংকল্প, সংকল্প থেকে পরিবর্তন’—এই বার্তাকে সামনে রেখেই রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি এগিয়ে চলেছে। আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই অভিযানের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের সামাজিক কাজে যুক্ত করার উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।