Home আগরতলাপুজোর আগে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী-সহায়িকাদের জন্য সরকারের আর্থিক উপহার, অনুদান ২,৬১০ টাকা

পুজোর আগে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী-সহায়িকাদের জন্য সরকারের আর্থিক উপহার, অনুদান ২,৬১০ টাকা

by Debasish
0 comments 1 views

উৎসবকালীন অগ্রিম হিসেবে মিলবে আরও ৫ হাজার টাকা; জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বকেয়া ইনসেন্টিভও পুজোর আগেই মেটানোর উদ্যোগ, জানালেন মন্ত্রী টিংকু রায়।

আগরতলা, ২ অক্টোবর: দুর্গাপূজার প্রাক্কালে রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের জন্য আর্থিক সুবিধার ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। উৎসব উপলক্ষে প্রত্যেক কর্মী ও সহায়িকার অ্যাকাউন্টে ২,৬১০ টাকা করে উৎসব অনুদান এবং ৫,০০০ টাকা করে উৎসবকালীন অগ্রিম প্রদান করা হবে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায়।

মন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত উৎসব অনুদানের তুলনায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের অনুদানের পরিমাণ ২১০ টাকা বেশি রাখা হয়েছে। পুজোর মরশুমে তাঁদের আর্থিক স্বস্তি দিতেই এই ব্যবস্থা।

শুধু উৎসবকালীন আর্থিক সুবিধাই নয়, অঙ্গনওয়াড়ি পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং কর্মীদের প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রেও একাধিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে মোট ১০ হাজার ৪৭৯টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালু রয়েছে। ধরতি আভা জনজাতি গ্রাম উৎকর্ষ অভিযানের আওতায় আরও ৫৫টি নতুন কেন্দ্রের অনুমোদন মিলেছে। সেগুলি চালু হলে রাজ্যে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১০ হাজার ৫৩৪।

অন্যদিকে, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সহায়তাও এসেছে। পিএম জনমন প্রকল্পের অধীনে ৮৩টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পাকা ভবন নির্মাণের জন্য প্রথম কিস্তিতে ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করেছে ভারত সরকারের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক।

সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অগ্রগতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে জাতীয় পারিবারিক সহায়তা প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ৫০৪টি পরিবারকে এককালীন ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পোষণ মাহ উপলক্ষে প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে কমিউনিটি বেসড ইভেন্ট আয়োজনের জন্য ৫০০ টাকা করে বরাদ্দ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে অতিরিক্ত আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। পোষণ ট্র্যাকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৮০ শতাংশ উচ্চতা ও ওজন পরিমাপের কাজ এবং ৬০ শতাংশ হোম ভিজিট সম্পন্নকারী যোগ্য অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা মাসে ৫০০ টাকা করে ইনসেন্টিভ পাবেন। অন্যদিকে, মাসে অন্তত ২১ দিন কেন্দ্র খোলা রাখার শর্ত পূরণকারী যোগ্য সহায়িকাদের জন্য মাসিক ২৫০ টাকা প্রণোদনা নির্ধারিত হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট সাত মাসের এই ইনসেন্টিভ প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে। দুর্গাপূজার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মী ও সহায়িকাদের হাতে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মী ও সহায়িকাদের অবদানকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁদের আর্থিক ও কর্মসংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করেন টিংকু রায়। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

You may also like

Leave a Comment