রাজ্য নির্বাচন দপ্তরের সামনে ধর্না, CEC-এর কুশপুতুলে আগুন; ‘গণতন্ত্র হত্যা’র অভিযোগ সুদীপ রায় বর্মনের
আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের আঁচ এবার ত্রিপুরাতেও। শুক্রবার আগরতলায় রাজ্য নির্বাচন দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখাল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। বিক্ষোভ থেকে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়। একইসঙ্গে তাঁর কুশপুতুল পোড়ানো হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
কংগ্রেসের অভিযোগ, SIR-এর নামে বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য ও আপত্তির খবর প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের SIR-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তির কথা উঠে এসেছে। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বহু-সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে মতপার্থক্য ও অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা স্বাভাবিক এবং সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।

এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা কংগ্রেসের বিধায়ক তথা কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য সুদীপ রায় বর্মন-সহ দলীয় নেতা-কর্মীরা। বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুদীপ রায় বর্মন CEC জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলেন এবং তাঁর পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সুদীপ রায় বর্মনের অভিযোগ, SIR-এর মাধ্যমে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে। একইসঙ্গে তিনি ‘ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি’র সমালোচনা করে কংগ্রেসকে গণভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে যাওয়া হবে। এদিনের কর্মসূচিকে সেই ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেই দেখছে প্রদেশ কংগ্রেস।
উল্লেখ্য, SIR নিয়ে বর্তমানে জাতীয় স্তরেও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলি CEC-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ মতামত বা পর্যালোচনা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং সিদ্ধান্তগুলি নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে।