আগরতলা, ৭ আগস্ট।। নিট (NEET UG) ২০২৪-এর ত্রিপুরা রাজ্য কোটার প্রভিশনাল মেরিট লিস্ট প্রকাশের পর তা ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মেরিট লিস্টে একাধিক অসঙ্গতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে শুক্রবার ডাইরেক্টরেট অব মেডিকেল এডুকেশন (ডিএমই)-এর দপ্তরে ডেপুটেশন দিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন একদল প্রার্থী ও অভিভাবক। অভিযোগগুলির দ্রুত তদন্ত করে স্বচ্ছ ও নির্ভুল মেরিট লিস্ট প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রভিশনাল মেরিট লিস্টে কয়েকজন প্রার্থীকে ত্রিপুরা রাজ্যের তফসিলি জনজাতি (এসটি) কোটায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজনের উপাধি—যেমন গিরি, মিনা, খাঙ্গাল প্রভৃতি—ত্রিপুরা রাজ্যের স্বীকৃত এসটি সম্প্রদায়ের তালিকাভুক্ত নয়। ফলে প্রকৃত যোগ্য এসটি প্রার্থীরা তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে প্রতিনিধি দল দাবি করেছে, ‘জুগেশ চাকমা’ নামে এক প্রার্থীর নাম মিজোরাম রাজ্যের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রভিশনাল মেরিট লিস্টে থাকার পাশাপাশি ত্রিপুরা রাজ্যের প্রভিশনাল মেরিট লিস্টেও রয়েছে। একজন প্রার্থীর দুটি পৃথক রাজ্যের কোটায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুরো ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
প্রতিনিধি দলের বক্তব্য, মেডিকেল ভর্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় সামান্য অসঙ্গতিও বহু মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে। তাই সমস্ত আবেদনপত্র, আবাসিক শংসাপত্র, জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate) এবং অন্যান্য নথি পুনরায় কঠোরভাবে যাচাই করে চূড়ান্ত মেরিট লিস্ট প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
ডাইরেক্টরেট অব মেডিকেল এডুকেশন কর্তৃপক্ষ প্রতিনিধি দলের অভিযোগ ও জমা দেওয়া নথিপত্র গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
তবে অভিযোগগুলির সত্যতা সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত ডিএমই বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসা শিক্ষা মহল এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
