আগরতলা, ৭ আগস্ট:
ত্রিপুরার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো শুক্রবার। রাজ্যে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হলো ‘চাকমা ভাষা ও লিপি দিবস’। আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী সান্তনা চাকমা, অ্যাডভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান শম্ভুলাল চাকমা, দপ্তরের অধিকর্তা আনন্দ হরি জমাতিয়া, চাকমা সমাজের প্রধান সমাজপতি শান্তিবিকাশ চাকমা, প্রাক্তন বিধায়ক ড. অতুল দেববর্মাসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয়ের মূল ভিত্তি। তাই মাতৃভাষার সংরক্ষণ, বিকাশ এবং আগামী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া প্রত্যেক সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি বলেন, অন্যের ভাষা ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়েই নিজের মাতৃভাষাকে সুরক্ষিত ও সমৃদ্ধ করতে হবে। ইউনেস্কোর স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাকমা ভাষা ও লিপি এই অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি আরও জানান, জাতীয় শিক্ষা নীতির (NEP) আলোকে বর্তমানে ত্রিপুরার ১২৩টি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চাকমা ভাষায় পঠনপাঠনের ব্যবস্থা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই শিক্ষাব্যবস্থাকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, কোনো উদ্যোগের সূচনা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই আসল চ্যালেঞ্জ। তাই প্রতিবছর ‘চাকমা ভাষা ও লিপি দিবস’ উদযাপনের মাধ্যমে ভাষা চর্চা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তিনি আশ্বাস দেন, চাকমা ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ, প্রসার ও সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
