Home ত্রিপুরামেম, নিঃশ্বাস নেব কীভাবে?’— তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর প্রশ্নে আলোড়ন বিলোনিয়া জেবি স্কুলে

মেম, নিঃশ্বাস নেব কীভাবে?’— তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর প্রশ্নে আলোড়ন বিলোনিয়া জেবি স্কুলে

by Rajesh Roy
0 comments

আগরতলা, ৭ আগস্ট : স্কুল প্রাঙ্গণের একের পর এক গাছ কেটে ফেলার পর তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর সরল প্রশ্ন— “মেম, সব গাছ কেটে ফেললে আমরা নিঃশ্বাস নেব কীভাবে?”— এখন বিলোনিয়াজুড়ে আলোচনার বিষয়। ছোট্ট পূরুবী দাসের এই প্রশ্ন ঘিরেই পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং স্কুলের সবুজ হারানোর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

বিলোনিয়ার যোগমায়া কালীবাড়ি সংলগ্ন জেবি স্কুল, যা একসময় ‘মডেল স্কুল’ নামে পরিচিত ছিল, দীর্ঘদিন ধরে আগর, নিম, নাগেশ্বর, মেহগনি-সহ বিভিন্ন বড় গাছের সবুজ ছায়ায় ঘেরা ছিল। সম্প্রতি ওই গাছগুলোর অধিকাংশ কেটে ফেলার পর স্কুল চত্বরে নেমে এসেছে পরিবর্তনের ছাপ। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ (রিস্কি) গাছ অপসারণের কারণ দেখিয়ে স্কুল পরিচালন কমিটির চেয়ারম্যান তথা স্থানীয় কাউন্সিলরের উদ্যোগে বনদপ্তরের মাধ্যমে একাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তবে এ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মৌসুমী ঘোষ পাল। তাঁর দাবি, তিনি কেবল দুটি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণ এবং কয়েকটি গাছের ডালপালা ছাঁটার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বলেন, “আমি সব গাছ কাটার কথা বলিনি। দু’টি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটার এবং বাকি গাছগুলোর ডাল ছেঁটে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু পরে এসে অনেক গাছই কেটে ফেলা হয়েছে।”

banner

অন্যদিকে, মহকুমা শাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্থানীয় কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে পাঠানো রিকুইজিশনের ভিত্তিতেই বনদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে গাছ অপসারণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কোনো ভবন নির্মাণের জন্য গাছ কাটা হয়নি এবং কোন গাছ অপসারণ করা হবে, সে বিষয়ে স্থানীয় পর্যায় থেকেই তালিকা ও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার পর পরিবেশপ্রেমী ও এলাকাবাসীর একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, উন্নয়নের প্রয়োজনে পরিবেশের ভারসাম্য কতটা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি গাছগুলো সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে, তবে তার পরিবর্তে নতুন গাছ রোপণের উদ্যোগও নেওয়া উচিত ছিল।
ছোট্ট পূরুবী দাসের প্রশ্ন— “আমরা নিঃশ্বাস নেব কীভাবে?”— এখন শুধু একটি শিশুর কৌতূহল নয়, বরং পরিবেশ রক্ষায় সমাজের দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় এক প্রশ্ন হিসেবেই উঠে এসেছে।

You may also like

Leave a Comment