বাংলাদেশ সীমান্তে স্মার্ট নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ, আগরতলায় ১৮০টি সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারির পরিকল্পনা
আগরতলা, ৯ অক্টোবর: ত্রিপুরা পুলিশের প্রাক্তন মহানির্দেশক (ডিজিপি) অনুরাগ ধনকরের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি জি এস রাও। বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ। তাই তদন্তের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই রাজ্য পুলিশ সদর দপ্তরে নিজের চেম্বারের শৌচাগার থেকে অনুরাগ ধনকরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৯৯৪ ব্যাচের এই আইপিএস আধিকারিকের মৃত্যু ঘিরে রাজ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এর আগে রাজ্য বিধানসভায় জানিয়েছিলেন, মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যাজনিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
অনুরাগ ধনকর এর আগে বহুল আলোচিত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির তদন্তে সিবিআইয়ের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই মামলায় হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদীর নাম জড়িয়েছিল। পরবর্তীকালে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার ঘটনা পুনরায় তদন্তের জন্য গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলেরও নেতৃত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশ সীমান্তে স্মার্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এদিকে, ত্রিপুরা-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি জি এস রাও জানান, রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট ৮৫৬ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৮০৬ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশে দুর্গম ভূপ্রকৃতি, জলাশয় এবং ঘন জঙ্গলের কারণে বেড়া নির্মাণে সমস্যা রয়েছে।
গত জুন মাসে ত্রিপুরা সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে স্মার্ট বর্ডার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজ্য পুলিশ এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ইতিমধ্যেই প্রস্তাব তৈরি করেছে বলে জানান জি এস রাও।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আধুনিক প্রযুক্তি, স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তারক্ষীদের সমন্বয়ে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে যেসব এলাকায় প্রচলিত পদ্ধতিতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কঠিন, সেখানে বিকল্প প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
দুর্গাপুজোয় রাজ্যজুড়ে ১০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী
অন্যদিকে, আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলা দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তার প্রস্তুতি নিচ্ছে ত্রিপুরা পুলিশ। পুজোর দিনগুলিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর) এবং রাজ্য পুলিশের ১০ হাজারেরও বেশি কর্মী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি।
আগরতলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রায় ১৮০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পুজোর সময় দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জরুরি পরিষেবা যাতে কোনও বাধার মুখে না পড়ে, তার জন্য পুজোর দিনগুলিতে গ্রিন করিডর চালু রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে অ্যাম্বুল্যান্স-সহ অন্যান্য জরুরি পরিষেবার গাড়িগুলিকে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেওয়া হবে।
প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, আগরতলা শহরেই প্রায় ৪৫০টি বারোয়ারি দুর্গাপুজোর আয়োজন হতে পারে। ফলে শহরের বিভিন্ন মণ্ডপ ও জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ পুলিশের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।