আগরতলা, ৬ অক্টোবর: ত্রিপুরার ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ফলাফলকে পাহাড়ি এলাকায় কংগ্রেসের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন প্রদেশ কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের ওপর নির্ভরশীল থাকার কারণে জনজাতি এলাকায় সাংগঠনিকভাবে পিছিয়ে পড়েছিল কংগ্রেস। তবে এবারের ফলাফল দলকে নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে।
সুদীপ রায় বর্মনের বক্তব্য, ADC এলাকার নির্বাচনে কংগ্রেস খুব বেশি প্রত্যাশা নিয়ে লড়াই করেনি। কারণ দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি এলাকায় দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল। তিনি বলেন, অতীতে TUJS, IPFT, INPT কিংবা TNV-এর মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ওপর কংগ্রেসকে নির্ভর করতে হয়েছে। ফলে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করার ক্ষেত্রে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।
তবে এবারের নির্বাচনের ফলাফল সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, কংগ্রেস সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরা প্রায় ২০ থেকে ২২টি আসনে জয় পেয়েছেন। বর্তমানে দলের হাতে প্রায় ১৪টি আসনের হিসাব রয়েছে। জয়ী কংগ্রেস-সমর্থিত নির্দল প্রার্থীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আগামী দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সুদীপ রায় বর্মন বলেন, “আমরা মাত্র নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে শুরু করেছি। ভবিষ্যতের জন্য এই ফলাফল আমাদের আশার আলো দেখাচ্ছে।” তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং কংগ্রেস পাহাড়ি এলাকায় নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে পারবে।
এদিকে তিপ্রা মথা পার্টির সাফল্যের জন্য দলটিকে অভিনন্দন জানান সুদীপ রায় বর্মন। তাঁর দাবি, তিপ্রা মথা প্রায় ৭৪.৬২ শতাংশ আসনে জয় পেয়েছে, যেখানে বিজেপির একক আসন-ভিত্তিক সাফল্য প্রায় ১৮.৭ শতাংশ। তাঁর অভিযোগ, নিজেদের ফলাফল আড়াল করতেই বিজেপি বারবার ‘NDA’ জয়ের কথা তুলে ধরছে।
তিনি বলেন, তিপ্রা মথা নিজেদের জয়ের আসন সংখ্যা নিয়ে কথা বলছে। অথচ বিজেপি তাদের নিজস্ব ফলাফলের বদলে ‘NDA, NDA’ বলে প্রচার করছে। এটিকে বিজেপির রাজনৈতিক অস্বস্তি ঢাকার চেষ্টা বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
আগরতলায় বিজেপি ও আইপিএফটির বিজয় মিছিল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির ১৮.৭ শতাংশ এবং আইপিএফটির ০.৭১ শতাংশ—দুই দল মিলিয়ে মোট আসনের ১৯ শতাংশের কিছু বেশি। সেখানে বিজয় মিছিলের আয়োজন করে বড় ধরনের জয়ের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে একইসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির জয়কে খাটো করতে চান না বলেও স্পষ্ট করেন সুদীপ রায় বর্মন। সফল প্রত্যেক প্রার্থীকে অভিনন্দন জানান তিনি।
কংগ্রেসের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি আসনে দল খুব অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। কোথাও এক ভোট, কোথাও দুই বা তিন ভোটের ব্যবধানেও পরাজয় হয়েছে। ফলে পাহাড়ে কংগ্রেসের লড়াই যে একেবারে শেষ হয়ে যায়নি, বরং নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে—এমনটাই দাবি তাঁর।
তবে নির্বাচনে বামফ্রন্টের ফলাফল নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন সুদীপ রায় বর্মন। বিশেষ করে INDIA জোটের শরিক হিসেবে বাম দলগুলির ফলাফল তাঁকে হতাশ করেছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, বামেদের আসনপ্রাপ্তির হার মাত্র প্রায় ১.৮৯ শতাংশ।
তিনি বলেন, মাত্র এক দশক আগেও জনজাতি এলাকায় বামেদের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। বর্তমানে সেই জায়গা কেন হারাল, তা বাম নেতৃত্বকে আত্মসমালোচনার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে।
সুদীপ রায় বর্মনের মতে, কোনও একটি নির্বাচনের ফলাফলকে কোনও দলের ভবিষ্যতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রতিটি নির্বাচন আলাদা ইস্যু, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনমতের ওপর নির্ভর করে। তাই হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই।