Home আগরতলাদুর্গাপুজোয় রাজ্যে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ৪১০ মেগাওয়াটের সম্ভাবনা : মন্ত্রী রতন লাল নাথ

দুর্গাপুজোয় রাজ্যে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ৪১০ মেগাওয়াটের সম্ভাবনা : মন্ত্রী রতন লাল নাথ

by Debasish
0 comments 2 views

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি শুরু, পুজোর সময় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানোর সিদ্ধান্ত

আগরতলা, ৪ অক্টোবর। দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে রাজ্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বিদ্যুৎ দপ্তর। এবারের দুর্গোৎসবে রাজ্যে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ৪১০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ ও জরুরি পরিষেবা নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ।

শনিবার ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড (টিএসইসিএল) এবং ত্রিপুরা পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের (টিপিজিএল) আধিকারিক ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পুজোর দিনগুলিতে যাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সাধারণ মানুষ ও পুজো উদ্যোক্তাদের সমস্যায় পড়তে না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

বৈঠক শেষে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, গত বছর দুর্গাপুজোর সময় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ৩৮০ মেগাওয়াট হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে তা ৩৭৩ মেগাওয়াটের বেশি হয়নি। কিন্তু এবছর বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়তে পারে। সেই কারণে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে প্রায় ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার কথা মাথায় রেখে পরিকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে।

পুজোর সময় রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি প্রয়োজনে অন্যান্য অঞ্চল থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সংগ্রহের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, বড়দিনের সময় মিজোরামের অতিরিক্ত বিদ্যুতের প্রয়োজন হলে ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। একইভাবে দুর্গাপুজোর সময় ত্রিপুরার প্রয়োজন হলে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে ১৩২ কেভি, ৬৬ কেভি ও ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের বর্তমান পরিস্থিতি, উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণের কাজ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে আকস্মিক বিপর্যয় ঘটলে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার বিষয়গুলি পর্যালোচনা করা হয়।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ট্রান্সফরমার মজুত রাখা, স্ট্যান্ডবাই গাড়ি, মই এবং প্রয়োজনীয় কর্মী প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের জন্য ১৯১২ হেল্পলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে অতিরিক্ত কল সেন্টার ও অপারেটর নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

পুজোর দিনগুলিতে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে, যাতে ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা বজায় রাখা যায়। বড় বড় পুজো মণ্ডপের কাছাকাছি স্ট্যান্ডবাই ট্রান্সফরমার লোড করা গাড়িতে প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। কোথাও ট্রান্সফরমার বিকল হলে যাতে দ্রুত সেটি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়, সেই লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা।

অন্যদিকে, পুজো মণ্ডপে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও হুক লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এ ধরনের বিপজ্জনক সংযোগ থেকে বিরত থাকতে পুজো উদ্যোক্তাদের সতর্ক করা হয়েছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া প্রসঙ্গে রতনলাল নাথ জানান, বর্তমানে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বড় ধরনের ঝড় বা প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে মহালয়ার সময় আবহাওয়ার বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

মহালয়া অথবা তার আগের দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুজোর আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী।

You may also like

Leave a Comment