Home ত্রিপুরাছয় মাসের দুর্ভোগের পর সড়কে ক্ষোভের আগুন, নালীছড়ায় অবরোধে থমকে গেল কমলপুর-আমবাসা যোগাযোগ

ছয় মাসের দুর্ভোগের পর সড়কে ক্ষোভের আগুন, নালীছড়ায় অবরোধে থমকে গেল কমলপুর-আমবাসা যোগাযোগ

by Debasish
0 comments 2 views

বেহাল রাস্তা ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু সংস্কারের দাবিতে পথে ৫৫ পরিবারের বাসিন্দারা, প্রশাসনের আশ্বাসে উঠল অবরোধ

আমবাসা, ১ অক্টোবর: রাস্তার গর্তে জমে থাকা জল, কাদামাখা পথ আর জরাজীর্ণ সেতু—দীর্ঘ ছয় মাস ধরে এই দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যেই যাতায়াত করতে হচ্ছে আমবাসা মহকুমার কাছিমছড়া ভিলেজের কৃষ্ণ কুমার পাড়ার বাসিন্দাদের। একাধিকবার সমস্যার কথা জানিয়েও প্রত্যাশিত সমাধান না মেলায় বৃহস্পতিবার শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদের পথ বেছে নিলেন গ্রামবাসীরা। নালীছড়ায় কমলপুর-আমবাসা সড়ক অবরোধ করে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণ কুমার পাড়ার প্রায় ৫৫টি পরিবারের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম প্রধান রাস্তা এটি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বর্ষার বৃষ্টিতে সেই গর্তগুলিতে জল ও কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে রাস্তা। তার ওপর এলাকার সেতুটির বেহাল দশা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এই দুরবস্থার কারণে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাঁদের। বিশেষ করে স্কুলে যাওয়া ছোট ছোট পড়ুয়া, প্রবীণ নাগরিক এবং অসুস্থ রোগীদের নিয়ে সমস্যার শেষ নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহণের গাড়ি প্রবেশ করতেও বাধার মুখে পড়ছে বলে দাবি তাঁদের।

দীর্ঘদিনের এই অব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবের অভিযোগ তুলে এদিন সড়ক অবরোধে বসেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, অবিলম্বে রাস্তা ও সেতুর স্থায়ী সংস্কারের কাজ শুরু করতে হবে।

অবরোধের জেরে সকাল থেকেই কমলপুর-আমবাসা সড়কে যান চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে। রাস্তার দুই পাশে আটকে যায় একাধিক যানবাহন। কর্মস্থলগামী মানুষ, নিত্যযাত্রী এবং পণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত চালকদেরও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। ফলে কয়েকটি পরিবারের সমস্যার প্রতিবাদ মুহূর্তেই বৃহত্তর জনদুর্ভোগের চেহারা নেয়।

পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান আরডি এসডিও বিমল বর্মন। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা শোনেন তিনি। দ্রুত রাস্তা ও সেতু মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রশাসনিক আধিকারিক।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর অবশেষে অবরোধ তুলে নেন গ্রামবাসীরা। তবে অবরোধ প্রত্যাহার হলেও তাঁদের অসন্তোষ যে কাটেনি, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

গ্রামবাসীদের বক্তব্য, ছয় মাসের ভোগান্তির পর আর শুধু প্রতিশ্রুতিতে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা।

এখন দেখার, নালীছড়ার এই অবরোধের পর প্রশাসনিক আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, নাকি ফের আন্দোলনের মুখে পড়তে হয় কমলপুর-আমবাসা সড়ককে।

You may also like

Leave a Comment