Table of Contents
বকেয়া চালান থাকলে নো-এন্ট্রি জোনের পাস নয়, ডিজিটাল পাস ব্যবস্থায় জোর ট্রাফিক পুলিশের
আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে আগরতলা শহরের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে এবার আরও কড়াকড়ি পদক্ষেপ নিচ্ছে ত্রিপুরা ট্রাফিক পুলিশ। প্রায় ১৬ লক্ষ ই-চালান এখনও বকেয়া রয়েছে এবং বকেয়া ট্রাফিক জরিমানার পরিমাণ প্রায় ১৬০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে বকেয়া ট্রাফিক জরিমানা থাকা গাড়িকে দুর্গাপুজোর সময় নির্দিষ্ট নো-এন্ট্রি এলাকায় প্রবেশের জন্য কোনও পাস দেওয়া হবে না।
শুক্রবার আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান ট্রাফিক এসপি কান্তা জাহাঙ্গীর। তিনি জানান, ২০২০ সাল থেকে বিপুল সংখ্যক ই-চালান বকেয়া রয়েছে। গত বছর প্রায় ৬,৫০০টি পাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার যেসব গাড়ির নামে ট্রাফিক চালান বকেয়া রয়েছে, সেই গাড়িগুলিকে পুজোর পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নির্দেশনা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ডিজিটাল পাসে জোর
দুর্গাপুজোর সময় যানজট নিয়ন্ত্রণে এবার পাস ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পাস ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে দফতর।
ট্রাফিক এসপি সতর্ক করে জানান, কেউ পাসে কারচুপি, জাল পাস তৈরি বা পাসের নকল করার চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে পাস বাতিল করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাস পাওয়ার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
তিনি স্পষ্ট করেন, পাস মূলত জরুরি পরিষেবা ও বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য। তাই অপ্রয়োজনে পাস ব্যবহার না করার জন্যও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।
বছরে ২০-৩০ কোটি জরিমানা আদায়
ট্রাফিক পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ত্রিপুরায় প্রতি বছর ট্রাফিক জরিমানা বাবদ প্রায় ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা আদায় হয়। তবে আগের বছরগুলির বিপুল পরিমাণ জরিমানা এখনও অনাদায়ী রয়েছে। সেই বকেয়া আদায়ের ক্ষেত্রেও এবার প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।
পুজোয় ১৭ থেকে ২০ অক্টোবর নো-এন্ট্রি
দুর্গাপুজোর ভিড় ও যানজট সামাল দিতে আগামী ১৭ থেকে ২০ অক্টোবর বিকেল ৫টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নো-এন্ট্রি ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এবছর যান নিয়ন্ত্রণের আওতায় আরও দুটি নতুন নো-এন্ট্রি রুট যুক্ত করা হয়েছে।
বাস, মিনিবাস, জিপ, অটোরিকশা এবং ছোট গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট টার্মিনাল পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। নো-এন্ট্রি চলাকালীন নির্দিষ্ট টার্মিনাল পর্যন্তই এসব যানবাহন চলাচল করতে পারবে।
অন্যদিকে, ট্রাক ও অন্যান্য পণ্যবাহী গাড়ির জন্যও পৃথক টার্মিনাল ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই যানবাহনের ক্ষেত্রে বিকেল ৫টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ জারি থাকবে।
প্রস্তাবিত টার্মিনালগুলির মধ্যে রয়েছে আমতলী বাইপাস, খয়েরপুর বাইপাস, রানিরবাজার থানার অধীন মাধববাড়ি, লিচুবাগান এবং বর্ডার গোলচক্কর।
সিসিটিভি ও ড্রপ গেট
গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল পয়েন্টগুলিতে ড্রপ গেট ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাফিক দফতর। পাশাপাশি যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ট্রাফিক কর্মী মোতায়েন করা হবে।
পুজোর সময়ে বিমান ও রেলপথে আগরতলায় আসা-যাওয়া করা যাত্রীদের সুবিধার জন্য পৃথক জরুরি রুট ও পার্কিং ব্যবস্থার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
ট্রাফিক এসপি জানান, দুর্গাপুজোর আগে বিস্তারিত ট্রাফিক অ্যাডভাইজরি প্রকাশ করা হবে। সেখানে নো-এন্ট্রি জোন, নির্দিষ্ট টার্মিনাল, পার্কিং ব্যবস্থা এবং জরুরি রুট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।