ধর্মনগর, ১৬ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরার শিক্ষক ও কাঠ ব্যবসায়ী আশিস সোমের নিখোঁজ রহস্যের ১৫ বছর পর তদন্তে নতুন মোড়। বুধবার অসমের শ্রীভূমি জেলায় তিনটি কবর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির কঙ্কালাবশেষ উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে এই কঙ্কালাবশেষ সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের কোনওটির সঙ্গে আশিস সোমের নিখোঁজ হওয়ার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার পর স্পষ্ট হতে পারে।
শ্রীভূমি শহরের সদর এলাকার একটি কবরস্থানে সমাহিত তিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির কবর থেকে বুধবার কঙ্কালাবশেষ উত্তোলন করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট, শ্রীভূমি সদর থানার আধিকারিক এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ত্রিপুরা থেকেও একটি প্রতিনিধি দল সেখানে উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে।
আগরতলার বাসিন্দা আশিস সোম ২০১১ সালে ত্রিপুরার কুমারঘাট এলাকা থেকে অপহৃত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। অপহরণের পর তাঁর পরিবারের কাছে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রী শেলি সোম শ্রীভূমির বরাইগ্রাম এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের হাতে ২৮ লক্ষ টাকা তুলে দেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও আশিস সোমকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া হয়। ত্রিপুরা পুলিশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করলেও আশিস সোমের কোনও সন্ধান মেলেনি।
২০১৪ সালে শ্রীভূমির শোনবিল এলাকা থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের দেহ উদ্ধার হয়। পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দেহটি করিমগঞ্জ সদর এলাকার একটি কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে সেই কবরও খুঁড়ে দেহাবশেষ উত্তোলন করা হয় এবং ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। তবে সেই ডিএনএ প্রোফাইল আশিস সোমের ডিএনএর সঙ্গে মেলেনি।
এরপর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে যায় ঘটনাটি। পরবর্তীতে ত্রিপুরার একটি আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতে একই কবরস্থান থেকে আরও তিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির দেহাবশেষ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী বুধবার তিনটি কবর খুঁড়ে কঙ্কালাবশেষ সংগ্রহ করা হয়েছে। এবার সেগুলির ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
তদন্তকারীদের আশা, ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট ১৫ বছর ধরে চলা আশিস সোম নিখোঁজ রহস্যের তদন্তে নতুন কোনও সূত্র দিতে পারে। তবে পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া কঙ্কালাবশেষের সঙ্গে আশিস সোমের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে স্বামী ও বাবার কোনও নির্দিষ্ট খবরের অপেক্ষায় রয়েছে আশিস সোমের পরিবার। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, স্ত্রী শেলি সোম এখনও স্বামীর ফিরে আসার আশায় সিঁদুর পরেন। তাঁদের মেয়ে বানশ্রী সোমের বয়স বর্তমানে ২৯ বছর। তিনিও বাবার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।