Home আগরতলা৩১ অক্টোবরের মধ্যে সম্পূর্ণ ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার লক্ষ্যে ত্রিপুরা

৩১ অক্টোবরের মধ্যে সম্পূর্ণ ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার লক্ষ্যে ত্রিপুরা

by Debasish
0 comments 6 views

‘আরোগ্য মন্থন ২০২৬’-এ রাজ্যের ডিজিটাল স্বাস্থ্য রূপান্তরের রোডম্যাপ তুলে ধরলেন স্বাস্থ্যসচিব গিত্তে কিরণকুমার

আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ত্রিপুরায় দ্রুত এগোচ্ছে ডিজিটাল স্বাস্থ্য রূপান্তরের কাজ। আগামী ৩১ অক্টোবর, ২০২৬-এর মধ্যে রাজ্যের জেলা ও মহকুমা হাসপাতাল, কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রগুলিকে ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুক্রবার নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত ‘আরোগ্য মন্থন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বর্তমান অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির সিইও ড. সুনীল কুমার বর্নওয়াল-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AB-PMJAY)-এর অষ্টম বর্ষপূর্তি এবং আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন (ABDM)-এর পঞ্চম বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের সচিব গিত্তে কিরণকুমার দিনকররাও, IAS, ডিজিটাল স্বাস্থ্য রূপান্তর সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নেন। তিনি ত্রিপুরার ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (IHMIS)-এর অভিজ্ঞতা এবং আগামী দিনের ডিজিটাল স্বাস্থ্য রোডম্যাপ তুলে ধরেন।

কাগজের ফাইল থেকে একীভূত ডিজিটাল ব্যবস্থায়

স্বাস্থ্যসচিব জানান, বিচ্ছিন্ন ও কাগজনির্ভর স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বেরিয়ে ত্রিপুরাকে একটি সংযুক্ত, পরস্পর-সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নাগরিককেন্দ্রিক ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়াই মূল লক্ষ্য। এই ব্যবস্থায় IHMIS মূল কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এবং ABDM বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করবে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, IHMIS-এর লক্ষ্য শুধু হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন বা কম্পিউটারাইজেশন নয়। এর মাধ্যমে নাগরিক, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচিকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কমবে অপেক্ষার সময়, দ্রুত হবে পরিষেবা

ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড সংরক্ষণ, স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্পদের আরও কার্যকর ব্যবহার, রোগীদের অপেক্ষার সময় কমানো, জরুরি পরিষেবার উন্নতি, স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া, রিয়েল-টাইম রিপোর্টিং এবং তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও সহজ হবে বলে জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ ও সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আরও কার্যকর গ্রিভান্স রিড্রেসাল ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

ABHA থেকে ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন

ABDM-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যসচিব। এর মধ্যে রয়েছে ABHA, স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিবন্ধন, পরস্পর-সামঞ্জস্যপূর্ণ স্বাস্থ্য রেকর্ড এবং রোগীর সম্মতির ভিত্তিতে স্বাস্থ্য তথ্য আদান-প্রদান।

এর ফলে ভবিষ্যতে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন, প্রেসক্রিপশন, ল্যাবরেটরি রিপোর্ট এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নথি ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। একইসঙ্গে কাগজের নথির ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।

আট জেলায় চলছে প্রশিক্ষণ

ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নের জন্য শুধুমাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে প্রযুক্তির আওতায় আনাই যথেষ্ট নয়—সেগুলির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন গিত্তে কিরণকুমার।

এই লক্ষ্যেই রাজ্যের আটটি জেলাজুড়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি নেটওয়ার্ক সংযোগ শক্তিশালী করা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের কাজও সমান্তরালভাবে চলছে।

স্বাস্থ্যসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে একই ধরনের মানসম্মত তথ্য ব্যবস্থাপনা চালু হলে হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি, ফার্মেসি এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রকল্পের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান আরও সহজ হবে। এর ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর নজরদারি ও ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতীয় স্তরের ‘আরোগ্য মন্থন ২০২৬’-এর মঞ্চে ত্রিপুরার এই ডিজিটাল স্বাস্থ্য উদ্যোগ তুলে ধরার মধ্য দিয়ে রাজ্যের IHMIS ও ABDM-ভিত্তিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও জাতীয় পর্যায়ে উপস্থাপিত হল।

You may also like

Leave a Comment