আগরতলা, ২১ সেপ্টেম্বর: যক্ষ্মা বা টিবি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা সম্পূর্ণ করার গুরুত্ব তুলে ধরতে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো টিবি সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কর্মসূচি। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (NHM) ত্রিপুরার ন্যাশনাল টিউবারকিউলোসিস এলিমিনেশন প্রোগ্রাম (NTEP) সেলের সহযোগিতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের টিবি রোগের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সচেতন করা হয়। টিবি প্রতিরোধের উপায়, রোগের সাধারণ উপসর্গ, সময়মতো রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত চিকিৎসা সম্পূর্ণ করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। টিবি সম্পর্কে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তারা।
এদিনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে MPH-এর ছাত্রী নবমিতা রায় বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পড়ুয়ারা যক্ষ্মা সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানার সুযোগ পেয়েছেন। একইসঙ্গে স্ক্রিনিংয়ের সুযোগও মিলেছে। এই ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকার, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানান তিনি।
নবমিতা বলেন, “এখানে যা শিখেছি, তা আমার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। ভবিষ্যতেও সরকার এ ধরনের উদ্যোগ চালিয়ে যাবে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য বিষয়গুলি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করবে—এটাই আশা করি।”
আয়োজকদের বক্তব্য, যক্ষ্মা প্রতিরোধে শুধু স্বাস্থ্য দফতরের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছাত্রছাত্রী এবং বৃহত্তর সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো স্ক্রিনিং, রোগ শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসা শুরু এবং নির্ধারিত চিকিৎসা সম্পূর্ণ করার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোই টিবি নির্মূলের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে টিবি সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।